আল-কুরআনের আলো

26 তম অর্ধায় চোরের কুতুব লাভ

লেখক: মো: রবিউল ইসলাম

হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:)  এর স্পর্শ জৈনক চোর কুতুব পদ লাভ করিয়াছিল।

সেই আমলে বাগদাদে এক চোর বসবাস করিত।তাহার তেমন কোন আয় রোজগারের ব্যাবস্থা ছিল না।পরিবার পরিজনের ভরণ পোষনের জন্য সে চুরিবিদ্যাকে পেশা হিসেবে নিয়েছিল।সুযোগ সুবিধা বুঝে অন্যের ঘরে প্রবেশ করিয়া মালামাল লইয়া সরিয়া পরিত।একদা সেই চোর লোকটি রাতের অন্ধকারে হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:)  এর গৃহে ঢুকিয়া পরিল।হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:)  তাহা টের পাইলেন। তিনি তাহার আধ্যাত্মিক ক্ষমতার বলে চোরটিকে গৃহমধ্যেই বন্দী করিয়া ফেলিলেন।
গৃহে প্রবেশ করিয়া চোরটি একটি মালামালের দিকে নছর দিতেই অন্ধ হয়ে গেলেন।সে কিছুই দেখতে পাইতেছিল না।কোথায় যাবে কি করবে কিছুই স্থীর করিতে না পেরে হতাশ হইয়া কক্ষের এক কোনে বসিয়া ভাবতে লাগিল হায় হায়  এ আমি কি কর্ম  করতে আসিয়াছি..?।আমার তো সর্বনাশ হইয়া গিয়াছে....আমি কাহার ঘড়ে চুরি করিতে আসিলাম।পীর সাহেবের গৃহে চুরি করিবার ইচ্ছা আমার কেন জাগিল.হায় আল্লাহ আমার একি দশা হইয়াছে।
এই বলিয়া চোরটি নানা ভাবে নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগিল। সকাল বেলা সে কি করিবে।লোকেরা তাহার কি দশা বানাইবে।নিশ্চয়ই এইরুপ কাজের জন্য তাহার গলা কাটা যাইবে।চির জীবনের জন্য তো অন্ধ হয়ে গেলাম,ইহার পর লান্চনার তো শেষ নাই।হায় আল্লাহ আমার নসিবে এ কি দুর্দশা ঘনিয়ে আসিল।এখনই যদি কেহ এই কক্ষে আসিয়া তাহাকে দেখিতে পায়।তাহা হইলে তো রাতেই তাহার দশা অন্যরকম হইয়া যাইবে।কোন রকম লুকাইয়া থাকিয়া সকাল সকাল দরজা খোলা মাত্রই যদি শরিয়া পরিতে পারে তবেতো কপাল ভালো।অন্ধ না হয় হইলাম গলা কাটা হইতে তো বাচতে পারতাম।হায় আল্লাহ তুমি আমকে রক্ষা কর,এমন কর্ম আমি আর কখনোও করিব না।

ঘরের কোনে বসিয়া যখন চোরটি অনুসূচনায় অস্থির হইয়া উঠিল  তখনি ঘটিল আরেকটি ঘটনা।হযরত খিজির (আ:) হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:) এর নীকট আসিলেন।তিনি তাহাকে জানাইলেন যে অদ্য একজন আবদাল ইন্তেকাল করেছেন।তাহার পরিবর্তে আরেকজন আবদালের দরকার,পূর্ববর্তী আবদালের দায়ীত্ব পালন করার জন্য।আপনি আপনার লোকজনের মধ্য হইতে একজনকে নির্বাচন করুন।

হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:) তাহার খাদেমকে ডাকিয়া বলিলেনঃ আমার গৃহের মধ্যে কোন একজন লোক বসিয়া আছে তাহাকে আমার নিকট লইয়া আস।
হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:)  এর নির্দেশ মোতাবেক খাদেম ঘরের কোন হইতে  উক্ত চোরটিকে লইয়া হুজুরের সম্মুখ্যে হাজির করলেন।চোরটি তখন ভয়ে কাপতেছিলো। হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:) তাহাকে কিছুই জিঙ্গাসা করলেন না। তাহার দিকে একবার মাত্র দৃষ্টি নিক্ষেপ করিলেন।অমনি চোরটি ইলমে মারেফতের জ্ঞানে পরিপুষ্ট হইয়া গেল।তাহাকে হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:)  আবদালি রূপে নিযুক্ত প্রদান করিলেন।
হযরত খিজির (আ:) তখন আবদালটিকে লইয়া অদৃশ্য হইয়া গেলেন।তাহারা চলিয়া গেলে হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:)  এর দরবারে যাহারা উপস্থিত ছিলেন তাহাদের মধ্যে হইতে জৈনক জিজ্ঞেস করিলেন হুজুর আপনার ঘরে বসিয়া ছিল লোকটি  কে...?
হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:) বলিলেন সে একজন চোর সে আমার গৃহে চুরি করবার জন্য প্রবেশ করিয়াছিল।আমি তাহাকে সঙ্গে সঙ্গে গৃহমধ্যে বন্দি করিয়া ফেলিলাম সাময়িকভাবে সে দৃষ্টি হারাইয়া ফেলিয়াছিল।তাহার অন্তরে অনুসূচনা দেখা দিয়াছিল।আমি ভাবিলাম আমার গৃহে আসিয়া খালি হাতে ফিরে যাবে ইহা কেমন করিয়া হয়। তাই আমি তাহাকে ডাকিয়া তাহার মধ্যে মারিফতের গভির  জ্ঞান দিয়ে আবদালের পদে নিয়োগ করিয়া একজন আল্লাহ ওয়ালা কুতুব বানিয়ে দিলাম এবং তাকে আবদালের পদে নিয়োগ করিয়া দায়িত্ব পালনের কাজও দিয়া দিলাম।

পরবর্তী অর্ধায়
ঈসা নবী (আ:) -এর আগমন পযন্ত দীঘায়ু লাভ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ