লেখক : মো: রবিউল ইসলাম
25 তম অর্ধায় জনৈক সওদাগরের ধন প্রান রক্ষা করলেন হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র:)
তুহকাতুল কদরী কিতাব হতে জানা যাইতেছে যে, হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (র:) এর সময়ে বাগদাদ নগরির কাছাকাছি এক মরুগ্রামে হাম্মদ নামে একজন সাধক বসবাস করিতেন।তিনি ছিল কামেল লোক আল্লাহ পাকের রেজামন্দি করিয়া তাহার দিন কাটিত।কতিপয় শিষ্যও তাহার ছিল।তাহার একজন মুরিদ দেশ বিদেশে গমন করিত।স্বীয় পীর হযরত হাম্মদ (রহ:) এর আদেশ নিশেধ মানিয়া চলিতেন।
একদা উক্ত সওদাগর স্বীয় পীর সাহেবের দরবারে আসিয়া আরজ করিল।হুজুর আমি আজ কালের মধ্যে দূরদেশে বানিজ্য করিতে যাইবার জন্য ওয়াদা করিয়াছি।এইবার আপনি অনুমতি দিন।আপনার অনুমতি পাইলে অচিরেই রওনা করিতে পারি।আমার যাত্রার আয়োজন পূর্ন হইয়াছে।
পীর সাহেব মুরিদের এই আবেদনের উত্তরে বলিলেন।শোন আমি তোমাকে এই সময় কোথাও যাইতে দিবনা আমি নিশেধ করিতেছি।আমার মনে হইতেছে এই সময় বানিজ্য করা তোমার জন্য কল্যাণকর হবে না।তুমি তোমার গৃহে অবস্থান করতে থাকো।কেননা তোমার বানিজ্য গমন ধন প্রান উভয়েরই ক্ষতির কারন হইতে পারে।তোমার দুঃসময় কাটিয়া গেলে অতঃপর তুমি আবার অনুমতি লইয়া বানিজ্যে যাইবে।ইহাতে তোমার অনেক লাভ হইবে।
মুরিদ সওদাগর তাহার মুর্শিদের এইরুপ আদেশে মনক্ষুন্ন হইল।সে ভাবিতে লাগিল গৃহে বসিয়া থাকিলে চলিবে কেন..?তাহার সংসারের ব্যায় কি করিয়া বহন করিবে সে।এইরুপ নানা দুশ্চিন্তা মাথায় করিয়া নিঃশব্দে স্বীয় মুর্শিদের নিকট হইতে চলে আসিল।সওদাগর বাগদাদ নগরিতে আসিয়া আরও দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হইয়া পরিল।সওদাগরীর জন্য যাবতীয় যোগাড় হইয়া গিয়েছে।তদপরী ব্যাবসা - বানিজ্যে না গেলে অনতি বিলম্বে অভাব আনটন দেখা দিবে।তখন সে কি করিবে কি করা যায় ভাবিতে ভাবিতে তাহার মনে পরিল বাগদাদ নগরিতে অবস্থানরত হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (র:)কথা এবং সে হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (র:)এর নিকট এসে তার বানিজ্যে যাবার কথা ব্যাক্ত করিল।স্বীয় পীর হাম্মদ (রহ:) এর নিশেধ বানী ও উপদেশাবলীও বলিলেন।এবং নিজের সুবিধা অসুবিধার কথাও বর্ননা করলেন।
হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (র:) সওদাগরের সকল কথা শ্রবন করিয়া বলিলেন,তোমার কথা শুনিয়া বুঝা যাইতেছে যে তুমি বানিজ্যে যাইতে পারিলে খুশি হও।তোমার মূর্শিদের নিশেধ থাকা সর্তেও বানিজ্যে গমন করতে চাহিতেছো।বেশ আমি তোমাকে অনুমতি দিলাম।তুমি বানিজ্যে রওয়ানা হও।তোমার চিন্তার কোন কারন নেই।আমি আল্লাহর নিকট দোয়া করিতেছি তিনি যেন তোমার বানিজ্যে সুজোগ সুবিধা দান করেন।তোমাকে বিপদ আপদ হতে রক্ষা করেন।বৃথা তুমি মন খারাপ করিও না।তুমি যেখানেই বানিজ্যে যাওনাকেন মহান আল্লাহর হেফাজতে তোমাকে সোপর্দ করিলাম।তিনি তোমার কল্যান সাধন করিবেন।
সওদাগর হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (র:) এর দোয়া ও অনুমতি লাভ করিয়া খুবই খুশী হইল।অতঃপর গৃহে ফিরিয়া গিয়া অতি সত্তর বানিজ্যের মালামাল লইয়া বিদেশের পথে রওনা করিল তাহার পীর হাম্মদ কে না জানিয়েই ।কয়েকদিন ক্রমাগত সফর করিয়া এক বিদেশের বাজারে উপস্থিত হইল। মালামাল বিক্রি করিয়া প্রচুর লাভও হইল।আবার বিদেশ হইতে বাগদাদে ফিরার জন্য নানান রকম পণ্য সামগ্রিও খরিদ করিল।খরিদ মালামাল বিভিন্ন স্থানে রাখিল।যাহাতে দেশে ফিরার সময় সেগুলো লইয়া আসিতে পারে।এইভাবে বিভিন্ন বাজারে ঘুরিয়া ফিরিয়া খরিদ করিয়া বারি ফিরিবার জন্য মনস্থ করিলো।হঠাৎ এক অভূতপূর্ব ঘটনা ঘটিয়া গেল। খরিদকৃত মালামাল যে যে স্থানে রাখিয়াছিল সে সকল স্থানের কথা ভুলিয়া গেল। কিছুতেই তাহার স্বরনে আসিল না কোথায় মালামাল রাখা হইয়াছে।অনুমান আন্দাজে তো আর কিছুই করিবার নাই।এইরুপ বিপদে পরিয়া সওদাগর খুবই দুশ্চিন্তায় পড়িয়া গেল।সে কি লইয়া স্বদেশে ফিরিবে।দ্বিতীয়ত তাহার সর্বশ্ব তো ঐ সবই মালামালের পিছনে খরচ হইয়াছে।তাহার মনে অশান্তির সৃষ্টি হইল।এবং সেখানেই একটা তাবু ফেলে বিশ্রাম নিতে লাগিল।
রাত্রি আসিল।নানা ভাবনা ভাবিতে ভাবিতে একসময় দেখিল যে,একদল মরুদস্যু তাহার উপর হানা দিয়া মালামাল সর্বস্ব লুন্ঠন করিয়া লইল।দস্যূ তাহাকে কয়েকটা ছুরিকাঘাত করিল।তাহার শরিল ক্ষতবিক্ষত হইয়া গেল। এইরুপ ভয়াবহ স্বপ্ন দেখিয়া তাহার ঘুম ভাঙ্গিয়া গেল।সজাগ হইয়া দেখিতে পারিল তাবুতে কোন ডাকাত পরেনি।তাহার শরিলও ঠিকঠাক আছে ক্ষতবিক্ষত হয়নি। হঠাৎ তাহার ঘারে যন্তনা অনুভব করতে লাগিল।হাত বুলাইয়া দেখিতে পাইলো ছোট একটা ক্ষত হইয়া রক্ত ঝরিতেছে।হঠাৎ রক্ত ঝরিতে দেখে সওদাগর অবাক হইয়া গেল।এবং বিপদ মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করিল। পরের দিন সকালে তাহার নিকট থাকা কিছু অর্থ করি দিয়ে কিছু মাল কিনলো এবং বিক্রি করে অনেক লাভ হইল।অন্যদিকে তাহার সৃতি সক্তি ফিরিয়া আসিতে লাগিল।এবং হারাইয়া যাওয়া মালামালগুলি ফিরিয়া পাইলো।সওদাগর খুবই খুশি হইয়া আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করিতে লাগিল আর নিজ দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিল।কয়েকদিন পর নিজ দেশে এসে প্রছাইলো পথে ঘাটে তাহার কোন বিপদ ঘটে নাই।স্বদেশে ফিরিয়া ভাবিতেছিল পীর হাম্মদ (রহ:) এর নিকট আগে গমন করিবে।না হযরত বড়পীর আব্দুল কাদের জিলানী (র:)এর দরবারে আগে যাইবে।হঠাৎ স্বীয় মুর্শিদ আসিয়া তাহার নিকট হাজির হইলেন।
স্বীয় পীর সাহেবকে দেখিয়া সওদাগর সালাম জানাইল এবং তাহার মুখে হাসি ফুটিয়া উঠিল।পীর সাহেব তার মনের অবস্থাতো অবগত ছিলেন।তিনি মোলায়েম কন্ঠে বলিলেন,তুমি হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:) এর নিকট হইতে যদি অনুমতি না লইয়া বানিজ্য গমন করতে তবে তোমার কঠিন বিপদে পরিতে হইত।তোমার প্রান নাশেরও সম্ভাবনা ছিল।স্বীয় পিরের নিকট হইতে এইরুপ কথা শুনিয়া সওদাগর বিস্মিত হইল।সে হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:) এর নিকট গিয়াছিল তা ইনি জানল কি করিয়া...?মনে প্রশ্ন তাহাকে নীরব এবং অপরাধী করিয়া তুলিল।মাথা নিচু করিয়া দারাইয়া রহিল। পীর হাম্মদ (রহ:) বলিলেন তুমি বানিজ্যে যাইবার পর হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:) তোমার ধন সম্পদ এবং প্রান রক্ষার জন্য মহান আল্লাহর নিকট সত্তর বার মোনাজাত করিয়াছেন।তাহার দোয়ার বরকতে আল্লাহ পাক তোমার বিপদাপদ কাটিয়া দিল।হারানো মালামাল পুনরায় ফিরিয়া পাইলে।ইহার পর থাহার পীর সাহেব চলিয়া গেলেন।সওদাগর আর দেরী না করিয়া ছুটিয়া গেলেন হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:) এর দরবারে।সেখানে উপস্থিত হইয়া বানিজ্যের যাহা যাহা ঘটিয়াছিল তাহা বর্ননা করিলেন।সওদাগরের সকল কথা শ্রবন করিয়া হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জীলানি (র:) বলিলেন শুনিয়া রাখ পীরের কথা সর্বদা মানিয়া চলিবে।এইবার আমার দোয়ার বরকতে মহান আল্লাহ তায়ালা তোমাকে বাচিয়াছে।নতুবা তোমার প্রান নাশ হতেও পারত।
পরবর্তী অর্ধায়
চোরের কুতুব লাভ

0 মন্তব্যসমূহ