লেখক : মো: রবিউল ইসলাম
-: 23 তম অর্ধায় :-
যাদুর কিতাব পবিত্র কুরআন শরিফে রূপান্তর
মাবকাতুন আবরা গ্রন্থ হইতে জানা যায় সেই কালে মোবারক বিন মাহফুর নামে এক লোক যাদু বিদ্যায় খুবই পারদর্শী ছিলেন সে লোকালয়ে নানা রকম যাদু ও ভেলকিবাজি দেখাইয়া লোক জমায়েত এবং তাহাদের নিকট হইতে অর্থ সংগ্রহ করিয়া জিবিকা নির্বাহ করিতেন।তাহার যাদুর কথা চারিদিকে ছড়াইয়া পরিয়াছিল।লোকে তাহাকে একজন বিখ্যাত যাদুকর বলিয়া জ্ঞাত ছিল।
একদিন মুবারক যাদুকর হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র:) এর দরবারে আসিলেন তাহার আসিবার কোন উদ্দেশ্য ছিল না।অনেক লোকই তো পীর সাহেবের আস্তানায় যায়।তিনিও ঘুরিতে ঘুরিতে তাহার যাদুর কিতাবখানা লইয়া হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র:) এর দরবারে উপস্থিত হইলেন।হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র:) মুবারক যাদুকরের হাতে যাদুর কিতাবখানা লক্ষ করিয়া বলিলেন,মোবারক তোমার হাতে যে যাদুর কিতাবখানা আছে উহা কিছুতেই তোমার কোন মূল্যবান সম্পদ নহে।তুমি তোমার কিতাবকানা পানিতে ধৌত করিয়া নিয়া আস।তোমার মনে রাখা উচিৎ ঐ কিতাবে যাহা আছে তাহা মুসলমানের শিক্ষা করা জায়েয নহে।
মুবারক যাদুকর, হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র:) এর এইরুপ কথা শ্রবন করিয়া খুবই লজ্জিত হইয়া পড়িলেন।তাহার লজ্জা হইলেও কিতাবখানার কিতাবখানার প্রতি ছিল দুর্বলতা।কারন ঐ কিতাবের বদৌলতে তিনি অনেক অর্থ রোজগার করিয়া থাকেন।এক্ষনে কিতাব খানা পানিতে ডুবাইলে নষ্ট হয়ে যাবে।তাহা হইলে তো তাহার আর যাদু দেখানো চলিবে না।বহু কষ্ট করিয়া যাহা তিনি যোগার করিয়াছেন তাহা নষ্ট করিবেন কেন..?দ্বিতীয় আরেক খানা যাদুর কিতাব আবার কোথায় পাইবেন।
মোবারক যাদুকর তাহার মনে মনে এরুপ ভাবিতে লাগিলেন,হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র:) মুবারকের মনের ভাবনা লক্ষ্য করিয়া কিছুটা রাগতস্বরে এবং তাহার দিকে অগ্নিশর্মা দৃষ্টিতে তাকাইয়া বলিলেন,মোবারক তুমি আমার সম্মুখ হইতে বিদায় হও।তুমি তোমার যাদুর কিতাব ফেলিয়া দাও উহা গৃহে রাখিয়া আস।কোনদিন ঐ কিতাব লইয়া আমার নিকট আসিবেনা।
হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র:) এর এরুপ কড়া কথা শুনিয়া মোবারক ভয়ে কাপিয়া উঠিলেন।তাহার সারাদেহ কাপিতে লাগিল।মাথা নিচু করিয়া কিছুক্ষন কি যে ভাবিয়া,নিস্তেজ কন্ঠে বলিলেন হুজুর আমাকে মাফ করিয়া দিন।আমি এই কিতাব নষ্ট করিয়া ফেলবো উহা আর রাখিব না।
হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র:) বলিলেন তোমার কিতাবখানা আমার নিকট দাও।মোবারক কিতাবখানা হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র:) এর হাতে সমর্পন করিলেন।
কিন্তু উহা দেওয়ার পূর্বে কিতাবের পৃষ্টা উল্টাইয়া দেখিলেন উহাতে কোন লেখা দেখা যাইতেছে না।পৃষ্ঠাগুলা সাদা হয়ে আছে কিছুটা অবাক হইয়া মুবারক নির্বাক হইয়া গেলেন। এই বার কিতাবখানা সোপর্দ করিয়া নিরবে দারাইয়া রহিলেন।
হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র:) কিতাবখানা হস্তে নিয়া উহার প্রতিটি পৃষ্টা একের পর এক উল্টাইয়া দেখিলেন এবং বলিলেন,মোবারক তুমি অযু করিয়া আসিয়া এই কিতাবখানা লইয়া যাবে।ইহাতে অমূল্য সম্পদ আছে যাহা পাঠ করিলে ক্ষুধা - পিপাসা দূর হয়ে যাইবে।অতঃপর মোবারক অযু করে এসে কিতাবখানা হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র:) এর নিকট হইতে নিয়া উহা খুলিয়া দেখিলেন।মুবারক অবাক হয়ে গেলেন তাহার যাদুর মন্ত্র গুলিতো নাই -ই উপরোন্তু ইহা একখানা পবিত্র কোরআন শরীফে রুপান্তরিত হইয়া গিয়াছে।
মুবারক এরুপ দেখিয়া হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র:) এর পদতলে লুটাইয়া পরিলেন।হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র:)তাহাকে স্বীয় হস্তে তুলিয়া বলিলেন মুবারক তুমি এতদিন যে যাদু মন্ত্র শিখিয়াছো উহা ভুলিয়া আল্লাহর নিকট তওবা কর।মুবারক তখনই হযরত বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী (র:) এর হাতে হাত রেখে তওবা করিলেন।সঙ্গে সঙ্গেই তাহার অন্তর হইতে যাদু মন্ত্র লোপ পাইয়া গেল।অতঃপর তিনি সারাজীবন আল্লাহ পাকের গভীর ইবাদতে আজীবন সাধনা করিতে লাগিল।
পরবর্তি অর্ধায়
জৈনক মহিলার ইজ্জত রক্ষা করলেন বড়পীর আবদুল কাদের জিলানী

0 মন্তব্যসমূহ